সর্বশেষ সংবাদ:
ধোবাউড়ায় সেলফোন রিপেয়ার টেকনিশিয়ান এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রেস বিফিং ধোবাউড়ায় নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে ইউনিয়ন আ.লীগের বর্ধিত সভা ধোবাউড়ায় উৎসব মূখর পরিবেশে জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ধোবাউড়ায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন যারা গামারিতলা ইউনিয়নে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে (হাতপাখা প্রতীকে) দলীয় মনোনয়ন গ্রহণ করলেন নজীর হোসেন নজর এবার আসছে গীতিকবি মোঃ রুবেল শেখের লেখা গান “পরাণ পাখি উড়াল দিলো” তেজগাঁওয়ে সড়কে গাড়ির ভেতর থেকে লাশ উদ্ধার না ফেরার দেশে প্রবীণ সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম দাদুভাই জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরের জন্মদিনে ধোবাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের ফুলেল শুভেচ্ছা সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিশ লক্ষ টাকার হিরোইনসহ ১ মাদক সম্রাটকে আটক করেছে র্যাব-১২

পথকলি শিশুদের ভরসার আরেক নাম “পথের ইশকুল”

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ- সকল বয়সী মানুষই চায় তার চারপাশের মানুষগুলো তাকে ভালোবেসে আগলে রাখুক আর সেদিক থেকে শিশুরা তো আদর পাওয়ার জন্য দু’পা এগিয়েই রাখে সবসময়। কিন্তু সবার কি এই ভালবাসাটুকু পাওয়ার সৌভাগ্য হয়! এই যে ধরুন যে শিশুটি আমাদের চলার পথে বেলুন বিক্রি করছে, আবার কেউ চকলেট বা চা বিক্রি করে রোজগার করছে কখনো কি একটু সময় করে ভেবেছেন ওদের কথা? এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষের উওর হবে “না” । আসলে রাস্তায় থাকা ঐ শিশুগুলোর কথা আমাদের ভাবার সময় হয়না। ভিন্ন দিকে একই বয়সী পরিবারের শিশুটির জন্য আমাদের চিন্তার শেষ থাকেনা আর যদি আবদারের কথা ভাবেন তাহলে তো বলে বা লিখে শেষ করা যাবেই না; এই ধরুন খাওয়ার সময় মোবাইল দিয়ে গেমস খেলবো বায়না, দোকানে খেলনা দেখে কেনার জন্য ব্যাকুল হয়ে যাওয়া আরো কত কি… তবে এই ব্যাস্ত শহরের বুকেও কিছু ভিন্ন মানুষ আছেন যারা তাদের হাজারো ব্যাস্ততার ভিরে তাদের দিনের একটি অংশ রেখে দেন এই সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের জন্য। ভালোবাসা ছড়িয়ে দেন এই শহরের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষগুলোর মাঝে। তেমনি একটি “পথের ইশকুল” পরিবার। গুলিস্তান ও আশেপাশের এলাকার পথশিশুদের কাছে ভালোবাসা প্রাপ্তির একটি প্রিয় জায়গারা নাম এই পথের ইশকুল। ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৫ সাল থেকে “পথের ইশকুল” নামের এই প্রি-এডুকেশনাল স্কুলের যাএা শুরু হয়, যেখানে বিনামূল্যে পড়ানো হয় পথশিশুদের। যেখানে তাদের জন্য আয়োজন করা হয় “বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতা”, “মেহেদি উৎসব”,”ঈদ উৎসব”, “ফল উৎসব”, “শীত উৎসব” পিঠা উৎসব, আর্ট এক্সিবিশন সহ নানা অনুষ্ঠানের। এখানে ক্লাস হয় গতানুগতিক ধারার থেকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। সপ্তাহের দিন অনুযায়ী ভাগ করে নেওয়া হয়েছে বিষয়বস্তু। কখনো ক্রাফটের ক্লাসে শিখছে কার্ড, প্রজাপতি, ব্যাঙ, পাখাসহ নানা জিনিপত্র তৈরি করা, আবার কখনো বর্ণ পরিচয়ের ক্লাসে পরিচিত হচ্ছে বর্ণমালার সাথে। বিজ্ঞান ক্লাসে শিখছে মজার মজার বিজ্ঞান, আবার স্টোরি টেলিং ক্লাসে শুনছে তাদের পছন্দের গল্প। সেই সাথে ভাগাভাগি করছে তাদের জীবনের সাদা কালো বা আনন্দ অনুভূতির গল্প, আবৃত্তি করছে কবিতা, গাইছে গান ও আঁকছে তাদের কল্পনার দুনিয়ার সুন্দর সুন্দর ছবি। মূলত প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থায় আবদ্ধ হয়ে তাদের সুবিধাবঞ্চিত জীবনে এবং দুরন্তপনায় পড়াশোনাটা যেন বিরক্তিকর মনে না হয় তার জন্যই এই ব্যাবস্থা। পথের ইশকুলের সবচেয়ে বড় দুইটি দিক হচ্ছে। এই স্কুলটি সম্পূর্ণরূপে তরুণদের উদ্যোগে পরিচালিত। পথের ইশকুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালক হলেন সাকির ইব্রাহিম মাটি। সহকারী প্রধান সমন্বয়ক উম্মে সালমা আক্তার উর্মি, তিনি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজির শেষ বর্ষের ছাত্রী এবং শাখা সমন্বয়ক হলেন রাজমিন আক্তার তিনিও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল টেকনোলজির শেষ বর্ষের ছাত্রী। এছাড়াও রয়েছে পথের ইশকুল পরিবারে রয়েছেন তানভীর আহমেদ, হাতিম সুলতান, মোঃ রইসুল ইসলাম, সাইদুল রেদোয়ান, আলি, জান্নাতুল ফেরদৌস, সোলেমান ফারুখ, সিহাব ফারাবীসহ আরোকিছু প্রানবন্ত ভলেন্টিয়ার যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং ভালোবাসায় চলছে পথের ইশকুলের পথচলা। তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদেরকে দেশের মুলধারার শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে তুলে আনার। ইতিমধ্যে কিছু শিশুকে ভর্তি করানো হয়েছে মুলধারার আবাসিক স্কুলে এবং পথের ইশকুলের সকলে আশা রাখেন তাদের সব শিক্ষার্থী একদিন মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে সফল করে তুলতে পারবে এবং অর্জিত নৈতিক শিক্ষা মনে রেখে নিজেদেরকে মানবিক এবং সংবেদনশীল করে তুলবে। এমনি করে দিনগুলো ভালোই যাচ্ছিল তাদের। কিন্তু হঠাৎ-ই তখন পৃথিবীতে এসে হানা দেয় ভয়াবহ এক মহামারি; করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে পুরো পৃথিবী যখন ভাইরাসের আক্রমণে ঘরবন্দী তখন এই পথের ইশকুলের বাচ্চাদের অবস্থা আরো বেহাল। খোলা আকাশের নিচে দিন কাটানো মানুষগুলোর তো ঘরই নেই। পেট চালানোর মতো অল্প কিছু টাকা জোগানোর যে রাস্তা ছিলো, লকডাউনের কারণে তাও সব বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের কাছে হাত পেতে পেট ভরানোর অবস্থাও তখন আর নেই। তাদের আদরের এবং ভরসার জায়গাগুলোও হয়ে যায় ফাঁকা। কারন তাদের ইশকুলের ভাইয়া আপুরাও লকডাউনের কারণে বের হতে পারছেন না ঘর থেকে। কিন্তু, নিজেদের এই প্রিয়মুখগুলোর এই বিপদগ্রস্ত অবস্থায় তারাও বা কয়দিন ঘরে বন্দী হয়ে শান্তিতে দিন কাটাতে পারেন? তাইতো লকডাউন একটু শিথিল হলেই পি.পি. ই. পরে ছুটে যান এই বাচ্চাদের কাছে। শুরু হয় বাচ্চাদেরকে প্রতিদিন একবেলা ফ্রি খাদ্য বিতরণ। তবে পরিবারের বাকি সবাইকে অভুক্ত রেখে বাচ্চারা কি আর খাবার মুখে তুলতে পারে? তাইতো প্রথমে প্রতিদিন গুলিস্তান ও আশেপাশের ৪০ জন পথশিশু ও ভাসমান মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হলেও, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সেটা দ্বিগুণ হয়ে ৮০জনে রুপান্তরিত হয়। তারপর কখনো ১০০, কখনো ১২০ বা ১৫০ মানুষের খাদ্য বিতরণ করতে থাকেন পথের ইশকুলের সেচ্ছাসেবীরা। তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় বহুদিন আগেই খাদ্য কার্যক্রমের ২০০ তম দিন পার হয়ে গেলেও এখনো চলছে তাদের সকল কার্যক্রম৷ শুধু খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম নয়, পথের ইশকুলে নিয়মিত দেয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে মেডিকেল ক্যাম্পেইন এর আয়োজন করা হয়। এমনকি এই করোনা মহামারীর মাঝেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার শীতেও গুলিস্তান ও আশেপাশের পথশিশু, ভাসমান মানুষদের মাঝে তিন ধাপে শীতের পোষাক ও কম্বল বিতরন করা হয় এবং এই পথশিশুদের চাহিদা পূরন করার পর পাহাড়ের আদিবাসীদের মাঝে বিতরন করা হয় পাচঁশত কম্বল। গত ২৪ জুলাই ২০২০ তারিখে নীলফামারীর ডিমলাতে বন্যা দুর্গত ৩০০ শত জনকে খাদ্য বিতরণ এবং ১০০ জনকে প্যাড বিতরণ করা হয়েছে পথের ইশকুল এর পক্ষ থেকে। ধর্মীয় নিয়ম মেনে এবার পথের ইশকুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল পশু কোরবানি (কোরবানি ঈদ)। নীল,শাকিল এবং খোকন নামক ৩ টি শিশুকে পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছে পথের ইশকুল । পথের ইশকুলের এই সেচ্ছাসেবীরা সহানুভূতি নয় সমানুভূতি নিয়ে পাশে থাকতে চায় সকলের। আমরাও অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা জানাই এই মানুষগু

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

More News Of This Category